প্রতারণা মামলার আসামি বাবুল আখতার আবারও আলোচনায় এসেছেন। আদালত সূত্রে জানা যায়, বাদী: মাকসুদুল আলম মঈনউদ্দিন দায়ের করা প্রতারণা মামলায় (সিআর নং-৩৬৮) চার মাস কারাভোগ করেন তিনি। এর আগে একই ধরনের অভিযোগে একাধিকবার কারাভোগ করেছেন বলেও জানা গেছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, বিভিন্ন সময়ে প্রলোভন ও মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে অর্থ আত্মসাৎ করেছেন বাবুল আখতার ও তার সহযোগীরা। অভিযোগে বলা হয়, বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। পরে বিষয়টি জানতে পেরে বাদী: মাকসুদুল আলম মঈনউদ্দিন আদালতে মামলা দায়ের করেন।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, মামলার বিষয়ে আরও তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে প্রতারণার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
মা এখনো পলাতক রয়েছেন। বাবা দীর্ঘদিন কারাভোগ করেছেন এবং মেয়েও বর্তমানে বিদেশে নেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ আত্মসাৎ এবং অনলাইন প্রতারণাসহ বিভিন্ন অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীদের কয়েকজনের করা মামলার তথ্য ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া পোস্টে এসব অভিযোগ সামনে আসে। তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে তার সরাসরি কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
জানা যায়, যশোর নার্সিং কলেজ থেকে ডিপ্লোমা সম্পন্ন করার পর তিনি ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে নার্স হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে উচ্চশিক্ষার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে যান বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।
অনলাইন সম্পর্ক ও অর্থ নেওয়ার অভিযোগ
কয়েকজন তরুণ অভিযোগ করেছেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পরিচয়ের পর ব্যক্তিগত সম্পর্কের সুযোগ নিয়ে বিভিন্ন অজুহাতে তাদের কাছ থেকে অর্থ নেওয়া হয়েছে। এ ধরনের একাধিক পোস্টে প্রতারণার শিকার হওয়ার দাবি উঠে আসে। যদিও এসব অভিযোগের স্বাধীন যাচাই সম্ভব হয়নি।
বিদেশে পাঠানোর প্রলোভন নিয়ে মামলা
বিদেশে পাঠানোর কথা বলে বড় অঙ্কের অর্থ নেওয়ার অভিযোগে রাজধানীর একটি থানায় প্রতারণা ও মানবপাচার সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা হয়েছে বলে জানা গেছে। মামলার বাদীরা দাবি করেন, চুক্তি অনুযায়ী বিদেশে পাঠানো সম্ভব না হলেও পুরো অর্থ ফেরত দেওয়া হয়নি। সংশ্লিষ্ট মামলায় কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে এবং আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
এর আগেও বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের অভিযোগে অভিযুক্ত কানিজ আখতার বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।
তদন্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ, দ্রুত চার্জশিট ও গ্রেপ্তারের দাবি
রাজধানীর বনানী থানায় দায়ের করা বহুল আলোচিত হত্যা ও বিস্ফোরণ মামলাকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। মামলার বাদীপক্ষ অভিযোগ করেছে, প্রভাবশালী আসামিদের বিরুদ্ধে দ্রুত চার্জশিট দাখিল না করে তদন্তে বিলম্ব করা হচ্ছে এবং তদন্ত প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ঘটছে।
অভিযোগের সারসংক্ষেপ
এজাহার অনুযায়ী, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে বেআইনি জনতা গঠন করে অবৈধ অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত অবস্থায় হামলা চালায়। অভিযোগে বলা হয়েছে, এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ ও বিস্ফোরক দ্রব্য, হাতবোমা ও ককটেল, ব্যবহারের ফলে হতাহতের ঘটনা ঘটে এবং ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।
বাদীপক্ষ দাবি করেছে, ঘটনাটি ছিল পূর্বপরিকল্পিত এবং নির্দিষ্ট একটি ছাত্রগোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। মামলায় বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সংগঠনিক পরিচয়ের ব্যক্তিদের নাম উল্লেখ রয়েছে বলে জানা গেছে। এর মধ্যে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা এবং আন্তর্জাতিক ধর্মীয় সংগঠন ইসকনের একজন উচ্চপদস্থ ব্যক্তির নামও অভিযোগে এসেছে।
এছাড়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের নামও মামলায় উল্লেখ রয়েছে বলে বাদীপক্ষ জানিয়েছে। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
তদন্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ
বাদীপক্ষের অভিযোগ, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম অর্থের বিনিময়ে কয়েকজন আসামির নাম চার্জশিট থেকে বাদ দেওয়ার চেষ্টা করছেন। এছাড়া প্রভাব খাটিয়ে তদন্ত প্রক্রিয়া ভিন্নমুখী করারও অভিযোগ তোলা হয়েছে।
আরও দাবি করা হয়েছে, মামলার এক আসামি অন্য একটি মামলায় গ্রেপ্তার হলেও এই মামলায় তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার দেখানো হয়নি, যদিও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ ছিল বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
নিরাপত্তা ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি
বাদীপক্ষের অভিযোগ, তারা হুমকির মুখে আছেন এবং দ্রুত আইনগত পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।
আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এমন গুরুতর অভিযোগের ক্ষেত্রে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করা জরুরি। প্রয়োজনে উচ্চপর্যায়ের তদারকি বা স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠনের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা যেতে পারে।
বাদীপক্ষের দাবিসমূহ
এজাহারে উল্লেখিত সকল আসামির বিরুদ্ধে দ্রুত চার্জশিট দাখিল, তদন্ত কর্মকর্তার ভূমিকা নিরপেক্ষভাবে যাচাই, প্রভাবশালী আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার, বাদীপক্ষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য ও পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপের দিকেই এখন নজর সবার।
নিজস্ব প্রতিবেদক 













