Dhaka 8:39 pm, Saturday, 18 April 2026
শিরোনাম :
সিলেট পলিটেকনিকে স্কিলস এন্ড ইনোভেশন কম্পিটিশন অনুষ্ঠিত স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে “বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩” উদযাপিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’ অনুষ্ঠিত না ফেরার দেশে সাবেক আইনমন্ত্রী শফিক আহমেদ জামিনে মুক্ত হলেন সাবেক স্পিকার শিরিন শারমিন গাজীপুর-৪ সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী জান্নাতুল ফেরদৌসী পহেলা বৈশাখের দিন ‘কৃষক কার্ড’ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী সারাদেশে চাঁদাবাজদের ‘পক্ষপাতমুক্ত’ তালিকা তৈরির কাজ করছে র‍্যাব সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনী তফশিল ঘোষণা নতুন দায়িত্বে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. শামছুল ইসলাম

ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানালেন জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের প্রথম প্রহরে ভাষাশহীদদের ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের নেতাকর্মীরা। এ সময় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে জোটের অন্য এমপিরাও উপস্থিত ছিলেন।

শুক্রবার দিবাগত রাতে (২১ ফেব্রুয়ারি) কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে উপস্থিত হন বিরোধী দলীয় নেতাকর্মীরা। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পর তারা শহীদ বেদীতে উপস্থিত হয়ে শ্রদ্ধা জানান। পরে ভাষাশহীদদের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনায় মোনাজাত করেন তারা।

এ সময় বিরোধীদলীয় হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামও উপস্থিত ছিলেন।

এরআগে রাত ১২টা ১ মিনিটে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে উপস্থিত হয়ে রাষ্ট্রপতি ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। পরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শহীদ মিনারের বেদীতে ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। পাশাপাশি শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নেন তিনি। পরে তিনি মন্ত্রিপরিষদ সদস্যদের নিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এরপর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্ত্রী জুবাইদা রহমান এবং কন্যা জাইমা রহমানকে নিয়েও ভাষাশহীদদের শ্রদ্ধা জানান।

দলীয় প্রধান হিসেবে বিএনপি নেতাদের নিয়েও ভাষাশহীদদের শ্রদ্ধা জানান তারেক রহমান।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীকে শহীদ মিনারে অভ্যর্থনা জানান। এ সময় বিভিন্ন দফতরের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা জানানোর পর তিন বাহিনীর প্রধানও ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

এছাড়া শহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে মধ্যরাতে ঘড়ির কাঁটা ১২টা ছোঁয়ার আগেই বহু মানুষ হাতে ফুল নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন লাইনে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতা-কর্মীরাও শহীদ বেদীতে শ্রদ্ধার্ঘ অর্পণের অপেক্ষায় আছেন।

এদিকে ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোকে কেন্দ্র করে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলা হয়েছে পুরো শহীদ মিনার এলাকা। শ্রদ্ধানুষ্ঠান নির্বিঘ্নে সারতে শুক্রবার দুপুরে থেকেই কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারসহ পুরো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় সাধারণের প্রবেশে কড়াকড়ি আরোপ করা করা হয়।

১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের মিছিলে পাকিস্তানি শাসক গোষ্ঠীর নির্দেশে পুলিশের গুলি চালায় পুলিশ। প্রাণ হারান সালাম, রফিক, বরকত, শফিউরসহ নাম না জানা অনেকে। এরপর বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষার স্বীকৃতি দেয় তৎকালীন পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী। ভাষা আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ১৯৭১ সালে সশস্ত্র সংগ্রামের মধ্য দিয়ে আসে বাংলাদেশের স্বাধীনতা।

মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষায় বাঙালির এই আত্মত্যাগের দিনটি এখন আর বাংলাদেশেই সীমাবদ্ধ নয়; ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালন করা হচ্ছে সারা বিশ্বে। ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর ইউনেস্কোর এক ঘোষণায় ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসাবে স্বীকৃতি পায়। বাঙালির ভাষার সংগ্রামের একুশ এখন বিশ্বের সব ভাষাভাষীর অধিকার রক্ষার দিন।

Timeless Blog

Nulla at nunc in ipsum dictum tincidunt ac rhoncus tellus. Vestibulum convallis non elit euismod malesuada. Nulla eget tempor arcu. Etiam dignissim arcu non fermentum sollicitudin. Cras eget vulputate eros. Morbi nulla tellus, volutpat sit amet semper ut, consequat sit amet velit. Morbi non mauris vel orci rhoncus aliquet eu quis felis. Donec lobortis viverra nulla non bibendum.

About Author Information

সিলেট পলিটেকনিকে স্কিলস এন্ড ইনোভেশন কম্পিটিশন অনুষ্ঠিত

ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানালেন জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট

Update Time : 02:52:19 am, Saturday, 21 February 2026

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের প্রথম প্রহরে ভাষাশহীদদের ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের নেতাকর্মীরা। এ সময় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে জোটের অন্য এমপিরাও উপস্থিত ছিলেন।

শুক্রবার দিবাগত রাতে (২১ ফেব্রুয়ারি) কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে উপস্থিত হন বিরোধী দলীয় নেতাকর্মীরা। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পর তারা শহীদ বেদীতে উপস্থিত হয়ে শ্রদ্ধা জানান। পরে ভাষাশহীদদের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনায় মোনাজাত করেন তারা।

এ সময় বিরোধীদলীয় হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামও উপস্থিত ছিলেন।

এরআগে রাত ১২টা ১ মিনিটে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে উপস্থিত হয়ে রাষ্ট্রপতি ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। পরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শহীদ মিনারের বেদীতে ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। পাশাপাশি শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নেন তিনি। পরে তিনি মন্ত্রিপরিষদ সদস্যদের নিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এরপর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্ত্রী জুবাইদা রহমান এবং কন্যা জাইমা রহমানকে নিয়েও ভাষাশহীদদের শ্রদ্ধা জানান।

দলীয় প্রধান হিসেবে বিএনপি নেতাদের নিয়েও ভাষাশহীদদের শ্রদ্ধা জানান তারেক রহমান।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীকে শহীদ মিনারে অভ্যর্থনা জানান। এ সময় বিভিন্ন দফতরের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা জানানোর পর তিন বাহিনীর প্রধানও ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

এছাড়া শহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে মধ্যরাতে ঘড়ির কাঁটা ১২টা ছোঁয়ার আগেই বহু মানুষ হাতে ফুল নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন লাইনে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতা-কর্মীরাও শহীদ বেদীতে শ্রদ্ধার্ঘ অর্পণের অপেক্ষায় আছেন।

এদিকে ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোকে কেন্দ্র করে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলা হয়েছে পুরো শহীদ মিনার এলাকা। শ্রদ্ধানুষ্ঠান নির্বিঘ্নে সারতে শুক্রবার দুপুরে থেকেই কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারসহ পুরো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় সাধারণের প্রবেশে কড়াকড়ি আরোপ করা করা হয়।

১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের মিছিলে পাকিস্তানি শাসক গোষ্ঠীর নির্দেশে পুলিশের গুলি চালায় পুলিশ। প্রাণ হারান সালাম, রফিক, বরকত, শফিউরসহ নাম না জানা অনেকে। এরপর বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষার স্বীকৃতি দেয় তৎকালীন পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী। ভাষা আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ১৯৭১ সালে সশস্ত্র সংগ্রামের মধ্য দিয়ে আসে বাংলাদেশের স্বাধীনতা।

মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষায় বাঙালির এই আত্মত্যাগের দিনটি এখন আর বাংলাদেশেই সীমাবদ্ধ নয়; ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালন করা হচ্ছে সারা বিশ্বে। ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর ইউনেস্কোর এক ঘোষণায় ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসাবে স্বীকৃতি পায়। বাঙালির ভাষার সংগ্রামের একুশ এখন বিশ্বের সব ভাষাভাষীর অধিকার রক্ষার দিন।