ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন ভোলা-৩ আসনের সাতবারের সংসদ সদস্য ও বিএনপি জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম। আর ডেপুটি স্পিকার হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন নেত্রকোনা-১ (সদর–দুর্গাপুর) আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
বৃহস্পতিবার (১৩ মার্চ) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার হওয়ার এই প্রস্তাব গৃহীত হয়। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন। পরে অমান্য রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন তাদের শপথ পড়ান।
সর্বশেষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পর বিএনপি সরকার গঠন করলে মন্ত্রিসভায় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন হাফিজ উদ্দিন আহমদ। আর ভূমি প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছিলেন কায়সার কামাল।
ভোলার লালমোহনে জন্মগ্রহণ করেন হাফিজ উদ্দিন আহমদ। ১৯৪৪ সালের ২৯ অক্টোবর জন্ম নেয়া এই রাজনীতিবিদের বাবা মরহুম ডা. আজহার উদ্দিন আহমদ পাকিস্তান জাতীয় সংসদের সাবেক সদস্য এবং মা মরহুমা করিমুন নেছা বেগম গৃহিণী ছিলেন।
শিক্ষাজীবনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৬৪ সালে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতক (সম্মান) এবং ১৯৬৫ সালে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন মেজর হাফিজ। পরের বছরের ১ ডিসেম্বর তিনি পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে কমিশনপ্রাপ্ত হন এবং ১৯৭৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে অবসর গ্রহণ করেন। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় অংশগ্রহণের জন্য তিনি বীরত্বসূচক রাষ্ট্রীয় খেতাব বীর বিক্রম লাভ করেন।
ভোলা-৩ (লালমোহন ও তজমুদ্দিন) আসন থেকে সাতবার জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন মেজর হাফিজ। ১৯৯১ সালে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর ১৯৯২ সালে বিএনপিতে যোগ দেন তিনি। বর্তমানে তিনি বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি বিএনপির মন্ত্রিসভায় ১৯৯৬ সালে বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী এবং ২০০১ সালে পানিসম্পদ, বাণিজ্য ও পাট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
অন্যদিকে, কায়সার কামাল ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কায়সার কামাল ৭০ হাজার ৮৫৫ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছিলেন। তার বাবা প্রয়াত মোস্তফা কামাল মনছুর কলমাকান্দা সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন।
ডেপুটি স্পিকার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিহাসে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর তিনি উচ্চশিক্ষার জন্য লন্ডনে চলে যান। সেখানে তিনি ব্যারিস্টার অ্যাট ল ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৮৮ সালে ছাত্ররাজনীতির মাধ্যমে রাজনীতিতে প্রবেশ করেন তিনি। ১৯৯৬ সালে হন কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের নির্বাহী সদস্য। একই বছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি ২০০৯ সালে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির নির্বাহী সদস্যপদ লাভ করেন। এরপর ২০১৬ সাল থেকে কেন্দ্রীয় বিএনপির আইনবিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
ডেস্ক রিপোর্ট 

















