Dhaka 7:37 pm, Thursday, 5 February 2026
শিরোনাম :
অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদে ১১৬ অধ্যাদেশ, ১৪ দ্বিপাক্ষিক চুক্তি সম্পন্ন রমজান মাস উপলক্ষে অফিস সময়সূচীতে পরিবর্তন আমরা যখন ইউনিফর্মে থাকব, তখন কোনো পক্ষপাতিত্ব করতে পারবো না- বিমানবাহিনী প্রধান পাকিস্তানকে ক্রীড়া উপদেষ্টার ধন্যবাদ জ্ঞাপন চলমান যুদ্ধবিরতির মাঝে আবারও গাজায় ইসরায়েলের ভয়াবহ হামলা, নিহত ২৩ ভেদাভেদের আগে সমঅধিকার প্রতিষ্ঠা করাই বিএনপির লক্ষ্য- ডা. জুবাইদা রহমান মব ভায়োলেন্স বলে কোনো কিছু নেই- স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা, ২৬টি বিষয়ে অগ্রাধিকার জামায়াত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদলের মৃত্যু ২৪ ঘন্টা না পেরোতেই ফের ভূমিকম্প!

৫২ থেকে ২৬; মাতৃভাষা আদায়ের মাস ফেব্রুয়ারি

ফাইল ছবি।

ইংরেজি ক্যালেন্ডারের পাতায় যখন ফেব্রুয়ারির আগমন ঘটে, তখন ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইলের এই জনপদে বইতে শুরু করে এক কনকনে শীতল আবেগের হাওয়া। এ হাওয়া শুধু শীতের বিদায়বার্তা নয়, বরং বাঙালির গৌরব-গাঁথা আর অর্জনের দীর্ঘ ইতিহাসের প্রতিধ্বনি। ফেব্রুয়ারির প্রতিটি দিন যেন আমাদের মনে করিয়ে দেয়, এই সেই মাস যখন স্লোগানে-মিছিলে রাজপথ রঞ্জিত করে বাঙালি তার প্রথম অধিকার ছিনিয়ে এনেছিল তাদেরই নিজস্ব মাতৃভাষা ‘বাংলা’।

 

রক্তের আঁচড়ে লেখা প্রথম বিজয়

১৯৫২ সালের সেই উত্তাল একুশে ফেব্রুয়ারি আজ থেকে ৭৪ বছর আগে যে অগ্নিস্ফুলিঙ্গ ছড়িয়েছিল, তা আজ আর কেবল বাংলাদেশের সীমানায় সীমাবদ্ধ নেই। ৫২ থেকে ২০২৬—এই দীর্ঘ পথপরিক্রমায় বাংলার প্রতিটি বর্ণমালা হয়ে উঠেছে বাঙালির অলংকার ও অহংকার। সালাম, বরকত, রফিক, জব্বারের সেই আত্মত্যাগ এখন বৈশ্বিক চেতনার নাম। তাঁদের তাজা রক্তেই কেনা হয়েছিল বিশ্বের বুকে নিজের ভাষায় কথা বলার সার্বভৌম অধিকার।

 

একুশ এখন বিশ্বজনীন

একসময় যা ছিল নিছক একটি রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন, ১৯৯৯ সালে ইউনেস্কোর স্বীকৃতির পর তা রূপ নিয়েছে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে’। বর্তমানে পৃথিবীর ১৯০টিরও বেশি দেশে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করা হয় বাঙালির এই আত্মত্যাগকে। ৫৬ হাজার বর্গমাইল পেরিয়ে বাংলা ভাষা এখন বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের হৃদয়ে।এরই ধারাবাহিকতায় আফ্রিকা মহাদেশের সিয়েরালিয়নের মানুষদের মুখেও শোনা যায় আমাদের বাংলা ভাষার শ্রুতি। এটি যেন হাজার বছর ধরে চলা এক ‘গৌরবের রিলে রেস’, যেখানে প্রতিটি প্রজন্ম পরম মমতায় পরবর্তী প্রজন্মের হাতে তুলে দিচ্ছে বর্ণমালার মশাল।

“ভাষা আন্দোলনের সেই অবিনাশী চেতনা আমাদের শিখিয়েছে মাথা নত না করার দম্ভ। ফেব্রুয়ারি আমাদের কাছে কেবল শোকের নয়, বরং এক অপরাজেয় শক্তির উৎস।”

 

সমসাময়িক ভাবনা: বহমান বাংলা

সময়ের সাথে সাথে ভাষার ব্যবহার ও ধরনে পরিবর্তন এসেছে। বিশ্বায়নের এই যুগে প্রযুক্তির উৎকর্ষে ভাষার সংমিশ্রণ কিংবা বিকৃতি নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও, বাঙালির কাছে উত্তর একটাই— “এসবই আমার ভাষা, আমার বাংলা ভাষা।” হাজার বছরের বিবর্তনে যে ভাষা টিকে আছে, তা আগামীতেও স্বমহিমায় টিকে থাকবে। কারণ এই ভাষার ভিত্তি কোনো সাধারণ পাথর নয়, বরং শহীদের তপ্ত রক্ত।

ফেব্রুয়ারি এলেই পলাশ-শিমুলের ডালে লাল রঙ লাগে, সেই লাল রঙের মাঝে আমরা খুঁজে পাই আমাদের অস্তিত্বকে। শহীদ মিনারের বেদিতে অর্পিত পুষ্পস্তবক কেবল ফুল নয়, তা হলো একটি জাতির কৃতজ্ঞতা প্রকাশের ভাষা।তাই তো আমি বাংলায় গান গাই,আমার ভায়ের রক্তে রাঙ্গানো একুশে ফেব্রুয়ারির মতন কালজয়ী গানের ন্যায় ভাষা শহিদ রফিক, সালাম, বরকত, জব্বারা কালের পরিক্রমায় রয়ে যাবে আমাদের আত্মার অন্তঃস্থলে।

Timeless Blog

Nulla at nunc in ipsum dictum tincidunt ac rhoncus tellus. Vestibulum convallis non elit euismod malesuada. Nulla eget tempor arcu. Etiam dignissim arcu non fermentum sollicitudin. Cras eget vulputate eros. Morbi nulla tellus, volutpat sit amet semper ut, consequat sit amet velit. Morbi non mauris vel orci rhoncus aliquet eu quis felis. Donec lobortis viverra nulla non bibendum.

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদে ১১৬ অধ্যাদেশ, ১৪ দ্বিপাক্ষিক চুক্তি সম্পন্ন

৫২ থেকে ২৬; মাতৃভাষা আদায়ের মাস ফেব্রুয়ারি

Update Time : 10:19:39 am, Sunday, 1 February 2026

ইংরেজি ক্যালেন্ডারের পাতায় যখন ফেব্রুয়ারির আগমন ঘটে, তখন ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইলের এই জনপদে বইতে শুরু করে এক কনকনে শীতল আবেগের হাওয়া। এ হাওয়া শুধু শীতের বিদায়বার্তা নয়, বরং বাঙালির গৌরব-গাঁথা আর অর্জনের দীর্ঘ ইতিহাসের প্রতিধ্বনি। ফেব্রুয়ারির প্রতিটি দিন যেন আমাদের মনে করিয়ে দেয়, এই সেই মাস যখন স্লোগানে-মিছিলে রাজপথ রঞ্জিত করে বাঙালি তার প্রথম অধিকার ছিনিয়ে এনেছিল তাদেরই নিজস্ব মাতৃভাষা ‘বাংলা’।

 

রক্তের আঁচড়ে লেখা প্রথম বিজয়

১৯৫২ সালের সেই উত্তাল একুশে ফেব্রুয়ারি আজ থেকে ৭৪ বছর আগে যে অগ্নিস্ফুলিঙ্গ ছড়িয়েছিল, তা আজ আর কেবল বাংলাদেশের সীমানায় সীমাবদ্ধ নেই। ৫২ থেকে ২০২৬—এই দীর্ঘ পথপরিক্রমায় বাংলার প্রতিটি বর্ণমালা হয়ে উঠেছে বাঙালির অলংকার ও অহংকার। সালাম, বরকত, রফিক, জব্বারের সেই আত্মত্যাগ এখন বৈশ্বিক চেতনার নাম। তাঁদের তাজা রক্তেই কেনা হয়েছিল বিশ্বের বুকে নিজের ভাষায় কথা বলার সার্বভৌম অধিকার।

 

একুশ এখন বিশ্বজনীন

একসময় যা ছিল নিছক একটি রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন, ১৯৯৯ সালে ইউনেস্কোর স্বীকৃতির পর তা রূপ নিয়েছে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে’। বর্তমানে পৃথিবীর ১৯০টিরও বেশি দেশে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করা হয় বাঙালির এই আত্মত্যাগকে। ৫৬ হাজার বর্গমাইল পেরিয়ে বাংলা ভাষা এখন বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের হৃদয়ে।এরই ধারাবাহিকতায় আফ্রিকা মহাদেশের সিয়েরালিয়নের মানুষদের মুখেও শোনা যায় আমাদের বাংলা ভাষার শ্রুতি। এটি যেন হাজার বছর ধরে চলা এক ‘গৌরবের রিলে রেস’, যেখানে প্রতিটি প্রজন্ম পরম মমতায় পরবর্তী প্রজন্মের হাতে তুলে দিচ্ছে বর্ণমালার মশাল।

“ভাষা আন্দোলনের সেই অবিনাশী চেতনা আমাদের শিখিয়েছে মাথা নত না করার দম্ভ। ফেব্রুয়ারি আমাদের কাছে কেবল শোকের নয়, বরং এক অপরাজেয় শক্তির উৎস।”

 

সমসাময়িক ভাবনা: বহমান বাংলা

সময়ের সাথে সাথে ভাষার ব্যবহার ও ধরনে পরিবর্তন এসেছে। বিশ্বায়নের এই যুগে প্রযুক্তির উৎকর্ষে ভাষার সংমিশ্রণ কিংবা বিকৃতি নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও, বাঙালির কাছে উত্তর একটাই— “এসবই আমার ভাষা, আমার বাংলা ভাষা।” হাজার বছরের বিবর্তনে যে ভাষা টিকে আছে, তা আগামীতেও স্বমহিমায় টিকে থাকবে। কারণ এই ভাষার ভিত্তি কোনো সাধারণ পাথর নয়, বরং শহীদের তপ্ত রক্ত।

ফেব্রুয়ারি এলেই পলাশ-শিমুলের ডালে লাল রঙ লাগে, সেই লাল রঙের মাঝে আমরা খুঁজে পাই আমাদের অস্তিত্বকে। শহীদ মিনারের বেদিতে অর্পিত পুষ্পস্তবক কেবল ফুল নয়, তা হলো একটি জাতির কৃতজ্ঞতা প্রকাশের ভাষা।তাই তো আমি বাংলায় গান গাই,আমার ভায়ের রক্তে রাঙ্গানো একুশে ফেব্রুয়ারির মতন কালজয়ী গানের ন্যায় ভাষা শহিদ রফিক, সালাম, বরকত, জব্বারা কালের পরিক্রমায় রয়ে যাবে আমাদের আত্মার অন্তঃস্থলে।