‘’ক্যাম্পাস জুড়ে আনন্দ খেলায়, আসুন সবাই মিতালি মেলায়‘’। উক্ত প্রতিপাদ্যকে কেন্দ্র করে স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে এবার আয়োজিত হল `মেলা মিতালি`।
সোমবার (০২ ফেব্রুয়ারি) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়টির সিদ্ধেশ্বরী ক্যাম্পাসের ফুল চত্বরে মেলাটির আয়োজন করা হয়।
সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অধ্যয়ন বিভাগের ৮৩ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের আয়োজনে মেলাটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হাসান।
এসময় উপস্থিত ছিলেন,কলা ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন এবং সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অধ্যয়ন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. কাজী আব্দুল মান্নান,রেজিস্ট্রার মো. আব্দুল মতিন, সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অধ্যয়ন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোশাররফ হোসেন মামুন, সহকারী অধ্যাপক তানিয়া সুলতানা, সহকারী অধ্যাপক সামিয়া আসাদী, সহকারী অধ্যাপক শবনম জান্নাত, প্রভাষক সোহেল হোসেন, প্রভাষক ফরিশতা সিদ্দিকী, প্রভাষক ফারিয়া জাহান এবং স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রদীপ্ত মোবারক।

উক্ত বিভাগের বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকগণ এবং শিক্ষার্থীবৃন্দও মেলার প্রাঙ্গনে উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য,মেলাটি সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অধ্যয়ন বিভাগের শিক্ষার্থীদের চলমান অর্থনীতি কোর্সের অংশ হিসেবে প্রতিবছরই কোর্স পরিচালক সহকারী অধ্যাপক তানিয়া সুলতানার তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। তারই ধারাবাহিকতায় এবারের `মেলা মিতালি`- এ ৮৩ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা মিলে মোট ৪ টি স্টলে বিভক্ত হয়ে বাঙালির ঐতিহ্যবাহী বাহারি রকমের তৈজসপত্র ও নিজস্ব তৈরি সুস্বাদু খাবার পরিবেশনের মাধ্যমে একজন তরুণ উদ্যোক্তা হিসেবে তাদের পথচলা শুরু করেন।
মেলাটির বিস্তারিত তুলে ধরে সহকারী অধ্যাপক তানিয়া সুলতানা বলেন,মুলত অর্থনীতি এবং উন্নয়ন বিষয়াবলি কোর্সের অধীনে এই আনন্দ আয়োজন করা যায়। এ নিয়ে পরপর তিন বছর ধারাবাহিকভাবে মেলাটির আয়োজন করে চলেছে এই বিভাগের শিক্ষার্থীরা।এই মেলার মূল লক্ষ্য থাকে দেশীয় পণ্য এবং খাদ্যের বৈচিত্র্য তুলে ধরা, পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর প্লাস্টিক পণ্যের পরিবর্তে বিকল্প ভাবনা। সেজন্য মেলায় মাটির হাঁড়ির ব্যবহার নজর কেড়েছিল। এছাড়া ছিল রিসাইক্লিং বা সম্পদের পুনরায় বাবহারের সংস্কৃতিকে জনপ্রিয় করে তোলা। সেই লক্ষ্যে বিশেষ সেলে আয়োজন করা হয় ডিক্লাটার স্টল।
আয়োজকদের পক্ষ হতে ফাইজা নোহান তার অভিব্যক্তি প্রকাশ করেন বলেন, মেলায় আমাদের ৮৩ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন রকমের স্টল নিয়ে এসেছে। কেউ কেউ নিয়ে এসেছে হ্যান্ডিক্রাফট। যেখানে ছিল মাটির তৈরি, কাঠের তৈরি বিভিন্ন ধরনের জুয়েলারি প্লাস বিভিন্ন ক্রাফটস। এছাড়াও অনেক মজার মজার মুখরোচক খাবারের দোকানও ছিল যেমন, বড়ই ভর্তা, পেয়ারা মাখা, পুডিংসহ অনেক ধরনের মজার মজার খাবার যা আমার সহপাঠীরা তাদের নিজস্ব উদ্যোগে তৈরি করে নিয়ে এসেছে। পাশপাশি আমরা ক্রেতাদের থেকে ভালোই সাড়া পাচ্ছি।
ইতোমধ্যে আমাদের প্রায় সব স্টলই স্টক আউট হয়ে যাচ্ছে। আর সবচেয়ে ভালো ব্যাপার হচ্ছে আমাদের ডিপার্টমেন্টের তিরাশি ব্যাচ যেহেতু এটি আয়োজন করেছে, ব্যাচের জন্য এটি একটি বিনোদনের জায়গা হিসেবে তৈরি হয়েছে। আর আমরা বিভিন্ন ডিপার্টমেন্টের সাথে আসলে যেহেতু আমরা একটা ক্যাম্পাসের কেন্দ্রে দাঁড়িয়ে প্রোগ্রামটি করছি সুতরাং আমরা বিভিন্ন ডিপার্টমেন্টের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সাথেও পরিচিত হতে পারছি যেটা আমাদের জন্য খুবই সুখকর!
মেলা প্রাঙ্গণে আগত ব্যক্তিবর্গ আয়োজনটির ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং অদূর ভবিষ্যতে এমন যুগোপযোগী উদ্যোগের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
পরিশেষে, সকাল ১১ ঘটিকা হতে শুরু হওয়া ‘মেলা মিতালি’ সকলের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের মাধ্যমে বিকেল ৫ ঘটিকায় সমাপ্ত হয়।

ইকরামুল হাসান 

















