মাদক ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) নবনিযুক্ত কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী।
দায়িত্ব নেওয়ার পরদিন গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে নগরীর দামপাড়া পুলিশ লাইন্সে ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা বলেন।
সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী বলেন, ‘আমাদের কর্মপন্থার মধ্যে প্রথমেই থাকবে নগরবাসীকে একটি চাঁদাবাজমুক্ত সমাজ উপহার দেওয়া এবং মাদকমুক্ত নগরী গড়ে তোলা। মাদক ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে আমাদের জিরো টলারেন্স।’
এক্ষেত্রে পুলিশের কোনো ধরনের শৈথিল্যও বরদাস্ত করা হবে না বলে সতর্ক করে তিনি বলেন, ‘এটা আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। এরপরে চুরি ছিনতাইসহ অন্যান্য যেসব অপরাধ আছে সেগুলো দমনে নিরলসভাবে কাজ করব।’
পুলিশ কমিশনার বলেন, ‘নগরীতে কোনো পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে চাঁদা বা ঘুষের অভিযোগ পাওয়া গেলে তা কঠোরভাবে দেখা হবে। এ ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ তিনি বলেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে নগরীতে মাদক ও ছিনতাইয়ের ঘটনা বেড়েছে। বিশেষ করে সিএনজি ব্যবহার করে ছিনতাইয়ের প্রবণতা বেশি দেখা যাচ্ছে। এসব ঘটনার হটস্পট চিহ্নিত করা হয়েছে এবং মাদক ব্যবসায়ী ও ছিনতাইকারীদের বিরুদ্ধে শিগগিরই বিশেষ অভিযান শুরু হবে।’
নগরীর বিভিন্ন স্থানে স্থাপিত সিসিটিভি ক্যামেরার কিছু অংশ নষ্ট হয়ে গেছে উল্লেখ করে শওকত আলী বলেন, ‘সেগুলো দ্রুত মেরামত করা হবে। পাশাপাশি নতুন করে আরও ক্যামেরা স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।’
তিনি আশা প্রকাশ করেন, সিসিটিভি নজরদারি জোরদার করা গেলে নগরীতে অপরাধ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।
নগরীকে অপরাধমুক্ত রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাবেন জানিয়ে সিএমপি কমিশনার বলেন, ‘নগরবাসী যাতে নগরীতে নিরাপত্তার অনুভূতি নিয়ে চলাফেরা করতে পারে সে পরিবেশ নিশ্চিত করব।’
চট্টগ্রাম নগরীতে কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা রোধ করতে পুলিশের বিশেষ অভিযান পরিচালনা করার কথাও বলেন সিএমপি কমিশনার। সেইসঙ্গে নগরবাসীকে যানজটমুক্ত নগর উপহার দেওয়ার চেষ্টাও অব্যাহত রাখার কথা বলেন তিনি।
উল্লেখ্য, শওকত আলী সিএমপি কমিশনার হিসেবে গত বুধবার দায়িত্ব নেন। ওইদিন সকালে তিনি বিদায়ি কমিশনার হাসিব আজিজের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব বুঝে নেন।
ডেস্ক রিপোর্ট 





















